বুধবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২৫

একটি সুন্দর ইমোশনাল ইসলামিক গল্প: "মায়ের দোয়া"

 


একটি সুন্দর ইমোশনাল ইসলামিক গল্প: "মায়ের দোয়া"

এক ছোট্ট গ্রামে বাস করতো একজন বুড়ি মা, নাম তার ফাতেমা বেগম। তাঁর একমাত্র ছেলে আব্দুল্লাহ। বাবা মারা গিয়েছিলেন অনেক আগেই। আব্দুল্লাহ ছিল মায়ের জীবনের একমাত্র আলো। সে পড়াশোনায় ভালো ছিল, কিন্তু গ্রামে চাকরি না পেয়ে শহরে চলে গেল ভালো কাজের খোঁজে। মা একা থেকে যান গ্রামের ছোট্ট মাটির ঘরে। প্রতিদিন ফজরের নামাজের পর তিনি কেঁদে কেটে দোয়া করতেন,
“ইয়া আল্লাহ! আমার ছেলেকে হেফাজত করো, তার রিজিক হালাল করো, তাকে দ্বীনের পথে রাখো।”
শহরে গিয়ে আব্দুল্লাহ প্রথমে অনেক কষ্ট করল। একটা ছোট কোম্পানিতে চাকরি পেল, কিন্তু বেতন খুব কম। তারপরও প্রতি মাসে যা পারত মাকে পাঠাত। কিন্তু ধীরে ধীরে শহরের চাকচিক্য তাকে পাল্টে দিতে লাগল। বন্ধুদের সাথে আড্ডা, রাত জেগে পার্টি, ধীরে ধীরে নামাজ কমতে লাগল। মাকে ফোন করলেও বলত, “মা, আমি ভালো আছি, চিন্তা কোরো না।” কিন্তু মা বুঝতেন ছেলে দূরে সরে যাচ্ছে। তবুও তিনি রাতের শেষ প্রহরে তাহাজ্জুদ পড়ে কাঁদতেন, “ইয়া রব! আমার ছেলেকে হেদায়েত দাও। আমি বুড়ি হয়ে গেছি, আমার আর কিছু চাওয়ার নেই, শুধু আমার ছেলেটাকে তুমি ফিরিয়ে নাও।”
একদিন রাতে আব্দুল্লাহ বন্ধুদের সাথে মদ পান করছিল। হঠাৎ তার বুকটা ধড়াস করে উঠল। মনে হল মা ডাকছেন। সে ফোন বের করে দেখল, মায়ের কোনো মিসড কল নেই। তবুও মনটা অস্থির। সে বাসায় ফিরে বিছানায় শুয়ে কাঁদতে লাগল। অনেক রাতে ঘুম ভেঙে গেল। স্বপ্নে দেখল, তার মা কাবার সামনে দাঁড়িয়ে কাঁদছেন আর বলছেন, “আল্লাহ, আমার ছেলেকে ফিরিয়ে দাও।” আব্দুল্লাহের বুক ফেটে কান্না এল। সে আর থাকতে পারল না। পরদিন সকালেই চাকরি ছেড়ে দিয়ে গ্রামের বাসে উঠে পড়ল।
গ্রামে পৌঁছে সে যখন মায়ের ঘরের দরজায় দাঁড়াল, দেখল মা মাটিতে বসে কোরআন পড়ছেন। আব্দুল্লাহ পড়ে গেল মায়ের পায়ের কাছে। কাঁদতে কাঁদতে বলল,
“মা, আমি পাপী, আমি হারিয়ে গিয়েছিলাম। তুমি ক্ষমা করো।”
মা তাকে জড়িয়ে ধরলেন। দুজনের চোখ দিয়ে অঝোরে পানি পড়ছে। মা বললেন,
“বাবা, মায়ের দোয়া কখনো ফেরত আসে না। আল্লাহ তোমাকে আমার কাছে ফিরিয়ে এনেছেন।”
সেদিন থেকে আব্দুল্লাহ আবার নামাজ পড়তে শুরু করল। গ্রামে একটা ছোট মাদ্রাসা খুলল। মানুষ তার জীবনের পরিবর্তন দেখে অবাক হয়। আর বুড়ি মা প্রতি রাতে তাহাজ্জুদে শুধু এই দোয়াই করতেন,
“ইয়া আল্লাহ! যেদিন আমি মারা যাব, সেদিনও আমার ছেলেকে তোমার পথে রেখো।”
কয়েক বছর পর মা মারা গেলেন। জানাজায় পুরো গ্রামের মানুষ এল। আব্দুল্লাহ মায়ের কবরের পাশে বসে কাঁদতে কাঁদতে বলল,
“মা, তুমি চিন্তা কোরো না। তোমার দোয়া আমাকে জীবন দিয়েছে, আমি কোনোদিন আল্লাহর পথ ছাড়ব না।”

আল্লাহ আমাদের সবাইকে মা-বাবার দোয়া কবুলের তাওফিক দিন। আমিন।


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এক দরিদ্র কাঠুরে ও আল্লাহর অলৌকিক রিযিকের গল্প: যা আপনার চোখ খুলে দেবে

  Muhabbot Hossain বর্তমান সময়ে আমরা অনেকেই রিযিক বা জীবিকা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় থাকি। একটু আর্থিক অনটন আসলেই আমরা হতাশ হয়ে পড়ি। কিন্তু আমরা...